ভেনামি চিংড়ি (পিনিয়াস ভেনামি)
বৃদ্ধির হার
দেহের ওজন ২০ গ্রাম হওয়া পর্যন্ত অতি উচ্চ বৃদ্ধির হার পাওয়া যায়। দেহের ওজন ২০ গ্রাম হওয়ার
পরে বৃদ্ধির হার ক্রমশ কমতে থাকে এবং খাদ্য রূপান্তর হার বাড়তে থাকে। স্বভাবগতভাবে খুব বেশি
আক্রমনাত্মক না হওয়ায় সহজেই অতি উচ্চ ঘনত্বে (৬০ টি/বর্গ মিটার) চাষ করা যায়। এই চিংড়ি
চাষে উপযুক্ত জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। ভেনামি চিংড়ি অক্সিজেনের অভাব সহ্য করতে পারে না
ফলে উচ্চ ঘনত্বের চাষে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে বায়ু সঞ্চালনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। গভীর পুকুর, সেন্ট্রাল
ড্রেনেজ অথবা স্লাজ নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।
সহ্য ক্ষমতা
লবণাক্ততার বিচ্যুতি ০.৫ – ৪৫ পি.পি.টি. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেট পর্যন্ত সহ্য করতে
পারে।
প্রোটিন এর চাহিদা
বাগদা চিংড়ির তুলনায় প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা কম (২০-৩৫%)
বাঁচার হার
হ্যাচারিতে বাগদা চিংড়ির তুলনায় বাঁচার হার অনেক বেশি (৫০-৬০%)। পরিবেশগত কারণে চাষ
ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁচার হার কমতে থাকে।
বাজারমূল‍্য
মিট ঈল্ড বেশি (৬৬-৬৮%) হওয়ার ফলে এই প্রজাতি খুব জনপ্রিয় এবং আমেরিকায় খুব ভালো
বাজার আছে। সমগ্র বিশ্বে উৎপাদন হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে যথেষ্ট প্রতিযোগিতা আছে। আন্তর্জাতিক
বাজারে দাম ওঠানামা হওয়ার কারণে এই চিংড়ি চাষে বাজার গত ঝুঁকি আছে।
এস.পি.এফ. স্টক
এস.পি.এফ. এবং হাই হেলথ স্টক এর প্রাপ্যতা ভেনামি চিংড়ি চাষের একটি অত্যন্ত সুবিধাজনক দিক।
স্বল্প জেনারেশন পিরিয়ড এবং ক্যাপটিভ ব্রিডিং সহজ হওয়ায় নির্বাচিত প্রজননের মাধ্যমে এস.পি.আর.
ব্রুডস্টক উৎপাদন তুলনামূলক ভাবে সহজ। এস.পি.এফ. হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি কোন রোগ
প্রতিরোধ করার শক্তি সম্পন্ন। একবার প্রাণীটিকে এস.পি.এফ. ব্যবস্থার বাইরে আনলে সেটিকে তখন ‘হাই
হেলথ’ বলা যাবে তবে তখন সেগুলি যে কোন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বাগদা চিংড়ি (পিনিয়াস মনোডন)
বৃদ্ধির হার
প্রথাগত, উন্নত প্রথাগত, আধা নিবিড়, নিবিড় ইত্যাদি পদ্ধতিতে বিভিন্ন ঘনত্বে বাগদা চিংড়ির চাষ করা
হয়। কম চাষ ঘনত্বে অধিক বৃদ্ধির হার পাওয়া যায় এবং চাষ ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধির হার
কমতে থাকে। আধা-নিবিড় পদ্ধতির বন্ধ চাষে ২০-২৫ টি/বর্গমিটার চাষ ঘনত্বে ১৩০-১৪০ দিনে দেহের
গড় ওজন ২৮-৩২ গ্ৰাম হয়।
চাষ ঘনত্ব
আধা-নিবিড় পদ্ধতির উন্মুক্ত চাষে সর্বাধিক ১২ টি/বর্গমিটার এবং বদ্ধ চাষে ২৫ টি/বর্গমিটার চাষ
ঘনত্ব রাখা যেতে পারে।

সহ্য ক্ষমতা
লবণাক্ততার বিচ্যুতি ০.৫-৪০ পি.পি.টি. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত সহ্য করতে
পারে। সর্বোত্তম লবণাক্ততা ও তাপমাত্রা হলো যথাক্রমে ১০-২৫ পি.পি.টি. এবং ২৮-৩৩ ডিগ্রী
সেন্টিগ্রেড।
প্রোটিনের চাহিদা
চাষ শুরুর সময় চিংড়ির ছোট অবস্থায় খাদ্যে প্রোটিনের চাহিদা ৪০%। চিংড়ি বড় হয়ে ক্রমশ ২০-২৫
গ্রাম দেহের ওজন হলে খাদ্যে প্রোটিনের চাহিদা হয় ৩৮%।
বাঁচার হার
আধা নিবিড় পদ্ধতির বদ্ধ চাষে সাধারণত ৬০-৮০% বাঁচার হার পাওয়া যায়।
বাজার মূল্য
আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়ির চাহিদা এবং বাজারমূল্য অত্যন্ত ভালো। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমা
ও বাড়ার ওপর নির্ভর করে চাষিকে চাষ প্রক্রিয়া নির্বাচন করতে হবে।
এস.পি.এফ. স্টক
বাগদা চিংড়ির এস.পি.এফ. স্টক উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। চাষ পুকুরে পি.সি.আর. পরীক্ষিত বিভিন্ন
রোগ থেকে মুক্ত মিন মজুদ করতে হবে।