স্থান নির্বাচনঃ

চিংড়ি চাষে স্থান নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ এই চাষে
সাফল্য ও ব্যর্থতা সঠিক স্থান নির্বাচনের উপর নির্ভর করে। স্থান নির্বাচনের
সময় সামান্য ভুলের কারণে খামার তৈরি এবং চাষের খরচ অনেক বেড়ে যেতে
পারে।
 পুকুর শুকানো এবং জল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব কে কাজে
লাগিয়ে বিনা খরচে এই কাজ করার ব্যবস্থা করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।

 সর্বনিম্ন ০.৪৫ থেকে ০.৬ মিটার ঢাল থাকলে পুকুর শুকানো এবং জল
পরিবর্তনের ক্ষেত্রে খুব সুবিধা হয়।
 সাধারণত: কাদাযুক্ত দোআঁশ মাটি চিংড়ি চাষের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত বলে
গণ্য করা হয়। বেলেমাটি যুক্ত স্থান নির্বাচন করা উচিত নয় কারণ এই
মাটিতে পুকুরে জল ধরে রাখা কঠিন হয়। মাটির পি.এইচ. ৫ এর কম এবং
মাটিতে অত্যধিক পরিমাণে ভারী ধাতুর উপস্থিতি থাকলে সেই স্থান বর্জন করা
উচিত।

মাটির সর্বোত্তম গুণমান
গুণমান সর্বোত্তম মান
মাটির ধরন কাদাযুক্ত দোআঁশ মাটি
পি.এইচ. ৭.০-৮.০
ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (শতাংশ) >৫.০
প্রাপ্ত নাইট্রোজেন (মিলিগ্রাম/১০০ গ্রাম মাটি) ৫০-৭৫
প্রাপ্ত ফসফরাস (মিলিগ্রাম/১০০ গ্রাম মাটি) ৪-৬
ইলেকট্রিক্যাল কন্ডাকটিভিটি (ডি.এস./মিটার) >৪
রেডক্স পোটেনশিয়াল (এম.ভি.) <১৫০

 অন্যান্য পরিকাঠামোগত সুবিধা যেমন মাল পরিবহন এবং যাতায়াতের জন্য
উপযুক্ত রাস্তা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কাছাকাছি হ্যাচারি, বরফ কল এবং প্রসেসিং
প্লান্ট এর উপস্থিতি ইত্যাদি খামারের স্থান নির্বাচনের সময় বিবেচনা করা
উচিত কারণ এগুলি চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 দুটি খামার এর মধ্যে অন্তত ২০ মিটার দূরত্ব থাকা উচিত এবং নিকটবর্তী
চাষের জমি থেকে খামারের দূরত্ব অন্তত ৫০ থেকে ১০০ মিটার হওয়া উচিত।

জলের সর্বোত্তম গুণমান
গুণমান সর্বোত্তম মান

লবণাক্ততা (পি.পি.টি.) ১০-২৫
তাপমাত্রা ( ০ সেন্টিড্রেড) ২৮-৩৩
পি.এইচ. ৭.৫-৮.৫
দ্রবীভূত অক্সিজেন (পি.পি.এম.) ৫-৬
অ্যালকালিনিটি (পি.পি.এম.) >৮০
টোটাল সাসপেন্ডেড সলিড (পি.পি.এম.) <১০০
সেক্কি ডিস্ক স্বচ্ছতা (সি.এম.) ২৫-৪৫
টারবিডিটি (এন.টি.ইউ.) ২৫-৫০
টোটাল অ্যামোনিয়া নাইট্রোজেন (পি.পি.এম.) <১
নাইট্রাইট নাইট্রোজেন (পি.পি.এম.) <০.২৫
হাইড্রোজেন সালফাইড (পি.পি.এম.) <০.০০৩
কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (পি.পি.এম.) <৭০
বায়েকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (পি.পি.এম.) <১০

 অনেকগুলি চিংড়ি খামার আগে থেকেই রয়েছে এমন স্থান নির্বাচন না করাই
ভালো।
 বাদাবন, কৃষি জমি, সল্টপ্যান এবং বাস্তুতান্ত্রিক ভাবে স্পর্শকাতর এলাকা যেমন
স্যাংচুয়ারি, মেরিন পার্ক ইত্যাদিকে পরিবর্তন করে খামার তৈরি করা উচিত
নয়।

 উচ্চ গুণমান সম্পন্ন এবং যথেষ্ট পরিমাণে লবণাক্ত জলের প্রাপ্যতা থাকা উচিত
চাষ চলাকালীন সময়ে। জলের উৎস নোনা জলের খাল, লেগুন অথবা ব্যাক
ওয়াটার হতে পারে।
 কোন স্থানে খামার তৈরি করার আগে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বছরের বিভিন্ন সময়ে
জলের প্রাপ্যতা ও গুণমান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে পর্যালোচনা
করা উচিত। জলের উৎস কোনোভাবেই শিল্প এবং কৃষিজ বর্জ্য পদার্থের দ্বারা
কলুষিত না থাকে।

Leave a Reply